বন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৬

জাতীয় বননীতির চূড়ান্ত খসড়ায় (২০১৬) মত দিন! বন ও বন্যপ্রাণী বাঁচান!

পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় জাতীয় বননীতির চূড়ান্ত খসড়া (২০১৬) প্রকাশ করেছে ও এই নীতির বিষয়ে গণ মত আহবান করেছে।

চূড়ান্ত খসড়াটি 
 http://fd.portal.gov.bd/sites/default/files/files/fd.portal.gov.bd/notices/5cf41be4_0bc0_4f49_bc62_897053e4dc80/Forestry%20Policy%20Final%20Draft%20(1).docx
 ওয়েব লিঙ্কে পাওয়া যাচ্ছে।

পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় এই খসড়া নীতির বিষয়ে গণমত নীচের ইমেইলগুলোয় পাঠাতে বলেছেঃ
pablahsifs@gmail.com, smrahman6789@gmail.com, djcengel@hotmail.com

মতামত পাঠানোর কোন শেষ তারিখ খসড়ায় উল্লেখ করা হয়নি।

তবে অনুসন্ধানে দেখা যায় পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের ওয়েব সাইট http://www.moef.gov.bd/, বন অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট www.bforest.gov.bd, ও বন অধিদপ্তরেরআরেকটি ওয়েবসাইট fd.portal.gov.bd কোনটিতেই মুল পাতায়, নোটিশ পাতায় বা আইন ও বিধির তালিকায় এই খসড়া বন নীতির কোন উল্লেখ নেই।




বিষয়টি ভালো করে পরীক্ষা করে দেখার জন্য আমরা www.bforest.gov.bd ও  fd.portal.gov.bd এর অনুসন্ধান বক্সে "National Forestry Policy, 2016 (Final Draft)" লিখে অনুসন্ধান করি। কিন্তু তাতে কোন ওয়েবসাইটেই এই নীতি সংক্রান্ত কোন খবর বা নীতির ভাষ্য উঠে আসেনি। শুধু গুগুল অনুসন্ধান যন্ত্রের সাহায্যে সাধারন অনুসন্ধানে আমরা খসড়াটির সন্ধান পাই ওপরে দেয়া লিঙ্কে।




খসড়া জাতীয় বননীতিটি পাঠ ও পর্যালোচনা করে সবাইকে সংশ্লিষ্ট ইমেইলে (ওপরে উল্লেখিত) মতামত পাঠানোর সনির্বন্ধ অনুরোধ জানাই। বাংলাদেশের প্রায় বিলীন হতে চলা বনাঞ্চল ও বন্য প্রাণীর প্রতি আমাদের ভালবাসা ও দায়িত্ব পালনের এই সুবর্ণ সুযোগ।

এই খসড়া নীতি গৃহীত হওয়ার পর এই নীতি অনুসারেই আগামিতে বাংলাদেশের বন ও বন্য প্রানি ব্যাবস্থাপনা করা হবে। তাই এই নীতির গুরুত্ব অপরিসীম।

আমাদের জিজ্ঞাসা

পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের ওয়েব সাইটে, এবং বন অধিদপ্তরের দুটি ওয়েবসাইটের কোথাও অনুসন্ধানে এই নীতির খসড়া বা এ সংক্রান্ত কোন খবর নেই কেন আমরা এই প্রশ্ন রাখি। জনগণকে মতামত দিতে না জানালে জনগন কিভাবে মতামত দিবে?

বন অধিদপ্তরের জন্য এক্তির জায়গায় দুটি ভিন্ন ভিন্ন ওয়েবসাইট,  www.bforest.gov.bd ও  fd.portal.gov.bd রাখা হয়েছে কেন?  

জাতীয় সম্পদের এই অপচয় করা হচ্ছে কেন?

আমাদের দাবী

জাতীয় বন নীতি ২০১৬ (চূড়ান্ত খসড়া) বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশ করে আনুষ্ঠানিক ভাবে জনমত আহবানের দাবী জানাই।


****
এ সংক্রান্ত কোন তথ্য, আইন, নীতি, বা সাধারন জিজ্ঞাসা থাকলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুনঃ raihan.khalid@yahoo.com

সোমবার, অক্টোবর ১০, ২০১৬

শেভরনের ত্রিমাত্রিক জরিপে ক্ষতবিক্ষত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান রক্ষায় এগিয়ে আসার আহবান

প্রথম প্রকাশের তারিখঃ Tuesday, 20 April 2010


পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলনে আলোচক ব্যারিস্টার আবু রায়হান মু খালিদ (সর্ব বামে)

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলন


শেভরনের ত্রিমাত্রিক জরিপে ক্ষতবিক্ষত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান রক্ষায় এগিয়ে আসার আহবান


শেভরনের ত্রিমাত্রিক জরিপে ক্ষতবিক্ষত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, আজ ২৭ এপ্রিল ২০০৮ পবা সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন। বক্তারা বলেন, শেভরনের ভূতাত্ত্বিক জরিপের কারণে প্রচন্ড শব্দের সৃষ্টি হচ্ছে, শেভরন কোম্পানির লোকেরা ভারী যন্ত্রপাতি ও যানবাহন নিয়ে প্রবেশ এবং বনাঞ্চলের প্রায় ১০০/১৫০ জন লোক প্রবেশ করার প্রেক্ষিতে বনের নিরবতা বা বনের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, সংরক্ষিত বনের ভিতর জরিপকার্যে নিয়োজিত লোকবল অবাধে ধূমপান করছে।


গত ২৬ এপ্রিল ২০০৮ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)-র একটি প্রতিনিধিদল লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান পরিদর্শনে উদ্যানে এই অবস্থা লক্ষ্য করেন। এর প্রেক্ষিকেই পবা এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।


ভূতাত্ত্বিক জরিপের ফলে আশেপাশের এলাকার কাচা-পাকা বাড়ীতে ফাটলের সৃষ্টি হচ্ছে। তীব্র কম্পনের ফলে অনেক বন্য প্রাণী বন ছেড়ে বেরিয়ে আসে। লাউয়াছড়া বনে শুধু শেভরন নয়, গ্রামীণ ফোনও কোম্পানির অপটিক্যাল ফাইভার স্থাপনের জন্য খননসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বন সংরক্ষন বিভাগের কর্মকর্তাদের এই কার্যক্রমের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কর্মকর্তাগণ গ্রামীণ ফোনের এ কার্যক্রম সম্পর্কে জানে না বলে পরির্দশন দলের প্রতিনিধিদের জানায়। রেল লাইনের ধারে গর্ত করে এধরনের কার্যক্রম রেল চলাচলের জন্য হুমকি বলে বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন। 


বক্তারা বলেন তেল, গ্যাস ও অন্যান্য খনিজ বস্তকে সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও আমাদের বনকে সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। বনকে সম্পদ হিসেবে বিবেচনা না করার কারণেই বনকে অবাধে ধ্বংস করা হয়। কিন্তু বন আমাদের অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ। সরকার বন রক্ষা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে একদিকে লক্ষ কোটি টাকা খরচ করছে। অপরদিকে এই ধরনের কোম্পানি ও দেশী কিছু স্বার্থানেষী কর্মকর্তা বা ব্যক্তির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ পরামর্শ ও সহযোগিতার কারণে বন ধ্বংস হচ্ছে। বন্যপ্রানী বিশেষজ্ঞদের মতে বন্য প্রানীরা তাদের বসবাসের জন্য অধিকতর নির্জন স্থানকেই বেছে নিয়ে থাকে। শেভরন কোম্পানীর এই জরিপের ফলে বনের সেই নির্জনতা ও নিরাপত্তা বিঘিœত হয়েছে। ফলে সংরক্ষিত বনে বসবাসকারী সকল প্রানীর আবাসন বিন্যাস ও জীববৈচিত্র হয়েছে বিপন্ন ও বিপর্যস্ত।


পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এডিবি, বিশ্বব্যাংকসহ এধরনের ঋণ প্রদানকারী সংস্থাগুলোর সহযোগিতা ও পরামর্শ, তেল কোম্পানিগুলো অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির নামে তেল অনুসন্ধানে বা উত্তোলনের কাজ চালায়। তেল উত্তোলন ও অনুসন্ধানের নামে ধ্বংস করে পরিবেশ, সমাজ, অর্থনীতি, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য। ১৯৯৭ সালে ১৪জুন মার্কিন কোম্পানী অক্সিডেন্টালের গ্যাসকূপে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। পরে বনের ভিতর দিয়ে ইউনোকল গ্যাস পাইপ লাইন বসানোর ফলে বনের প্রাকৃতিক পরিবেশের বিপর্যয় ঘটে। 


বক্তারা বলেন বিদেশী কোম্পানিগুলো কি আইনের উর্দ্ধে? দেশের পরিবেশবাদীদের অবজ্ঞা করে বিভিন্ন কোম্পানিকে কার্যক্রমের নামে পরিবেশ ধ্বংশের অনুমোদনের উদাহরণ এই প্রথম নয়। আইনকে ভঙ্গ করে এধরনের অনুমোদন কারা প্রদান করে? কি তাদের লাভ? এদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন। বক্তারা বলেন আমাদের দেশে কাজ করতে হলে অবশ্যই দেশের সকল আইন ও প্রতিষ্ঠানকে মান্য করে কাজ করতে হবে। রাষ্ট্রের আইন ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি অবজ্ঞা দেশের সংবিধান, সরকার ও জনসাধারণের প্রতি অবজ্ঞাও। একটি স্বাধীন সার্বভোম দেশে বিদেশী কোম্পানিগুলোর স্বেচ্ছাচারিতামূলক কার্যকলাপ কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। 


বক্তারা লাউয়াছড়া সংরক্ষিত উদ্যানে শেভরনের ত্রিমাত্রিক জরিপ নিষিদ্ধ, জরিপের কারণে ক্ষতিপুরণ আদায়ের পদক্ষেপ গ্রহণ, বিগত দিনে ও বর্তমানে দেশের বন ধ্বংশ করে তেল গ্যাস অনুসন্ধানের অনুমোদনকারী ও সমর্থনকারী কর্মকর্তাদের আইনী প্রক্রিয়ায় শাস্তি প্রদান, ভবিষ্যতে সংরক্ষিত এলাকায় এ ধরনের জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা অনুমোদন না করা, আগামীতে অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে দেশের ও আন্তর্জাতিক পরিবেশ আইনসহ সকল আইন মেনে অনুমোদন দেয়া, অনুসন্ধানকারী কোম্পানির কাছ থেকে বন্ডমানি নেয়া, বিদেশী কোম্পানিগুলোকে দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, আইন মেনে কার্যক্রম পরিচালনায় বাধ্য করা, সংরক্ষিত স্থানে সরকারী প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে অগ্রধিকার দেওয়া, যে কোন দূর্ঘটনার দায় কী হবে তা সুস্পষ্টভাবে অনুসন্ধানের চুক্তিতে উলে¬খ্য করা, চুক্তি স্বাক্ষরের পূর্বে জনসমক্ষে প্রকাশ করা এবং জনগণের মতামত নেয়ার দাবি করেন। বক্তারা বন রক্ষায় সরকার, গণমাধ্যমকর্মী, রাজনীতিবিদ, ছাত্র-শিক্ষক, উন্নয়নকর্মী, মানবাধিকার কর্মী, সমাজকর্মী, শ্রমিকসহ প্রতিটি স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহবান জানায়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিতি ছিলেন পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খান, তেল গ্যাস ও বন্দর ও বিদ্যু রক্ষা কমিটির ইঞ্জিঃ মোঃ শহিদুল্লাহ এবং ব্যারিষ্টার রায়হান খালিদ।

শেভরনের ত্রিমাত্রিক জরিপে ক্ষতবিক্ষত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান রক্ষায় এগিয়ে আসার আহবান

প্রথম প্রকাশের তারিখঃ Tuesday, 20 April 2010



পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলনে আলোচক ব্যারিস্টার আবু রায়হান মু খালিদ (সর্ব বামে)

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলন


শেভরনের ত্রিমাত্রিক জরিপে ক্ষতবিক্ষত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান রক্ষায় এগিয়ে আসার আহবান



শেভরনের ত্রিমাত্রিক জরিপে ক্ষতবিক্ষত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, আজ ২৭ এপ্রিল ২০০৮ পবা সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন। বক্তারা বলেন, শেভরনের ভূতাত্ত্বিক জরিপের কারণে প্রচন্ড শব্দের সৃষ্টি হচ্ছে, শেভরন কোম্পানির লোকেরা ভারী যন্ত্রপাতি ও যানবাহন নিয়ে প্রবেশ এবং বনাঞ্চলের প্রায় ১০০/১৫০ জন লোক প্রবেশ করার প্রেক্ষিতে বনের নিরবতা বা বনের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, সংরক্ষিত বনের ভিতর জরিপকার্যে নিয়োজিত লোকবল অবাধে ধূমপান করছে।



গত ২৬ এপ্রিল ২০০৮ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)-র একটি প্রতিনিধিদল লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান পরিদর্শনে উদ্যানে এই অবস্থা লক্ষ্য করেন। এর প্রেক্ষিকেই পবা এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।



ভূতাত্ত্বিক জরিপের ফলে আশেপাশের এলাকার কাচা-পাকা বাড়ীতে ফাটলের সৃষ্টি হচ্ছে। তীব্র কম্পনের ফলে অনেক বন্য প্রাণী বন ছেড়ে বেরিয়ে আসে। লাউয়াছড়া বনে শুধু শেভরন নয়, গ্রামীণ ফোনও কোম্পানির অপটিক্যাল ফাইভার স্থাপনের জন্য খননসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বন সংরক্ষন বিভাগের কর্মকর্তাদের এই কার্যক্রমের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কর্মকর্তাগণ গ্রামীণ ফোনের এ কার্যক্রম সম্পর্কে জানে না বলে পরির্দশন দলের প্রতিনিধিদের জানায়। রেল লাইনের ধারে গর্ত করে এধরনের কার্যক্রম রেল চলাচলের জন্য হুমকি বলে বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন। 



বক্তারা বলেন তেল, গ্যাস ও অন্যান্য খনিজ বস্তকে সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও আমাদের বনকে সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। বনকে সম্পদ হিসেবে বিবেচনা না করার কারণেই বনকে অবাধে ধ্বংস করা হয়। কিন্তু বন আমাদের অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ। সরকার বন রক্ষা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে একদিকে লক্ষ কোটি টাকা খরচ করছে। অপরদিকে এই ধরনের কোম্পানি ও দেশী কিছু স্বার্থানেষী কর্মকর্তা বা ব্যক্তির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ পরামর্শ ও সহযোগিতার কারণে বন ধ্বংস হচ্ছে। বন্যপ্রানী বিশেষজ্ঞদের মতে বন্য প্রানীরা তাদের বসবাসের জন্য অধিকতর নির্জন স্থানকেই বেছে নিয়ে থাকে। শেভরন কোম্পানীর এই জরিপের ফলে বনের সেই নির্জনতা ও নিরাপত্তা বিঘিœত হয়েছে। ফলে সংরক্ষিত বনে বসবাসকারী সকল প্রানীর আবাসন বিন্যাস ও জীববৈচিত্র হয়েছে বিপন্ন ও বিপর্যস্ত।



পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এডিবি, বিশ্বব্যাংকসহ এধরনের ঋণ প্রদানকারী সংস্থাগুলোর সহযোগিতা ও পরামর্শ, তেল কোম্পানিগুলো অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির নামে তেল অনুসন্ধানে বা উত্তোলনের কাজ চালায়। তেল উত্তোলন ও অনুসন্ধানের নামে ধ্বংস করে পরিবেশ, সমাজ, অর্থনীতি, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য। ১৯৯৭ সালে ১৪জুন মার্কিন কোম্পানী অক্সিডেন্টালের গ্যাসকূপে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। পরে বনের ভিতর দিয়ে ইউনোকল গ্যাস পাইপ লাইন বসানোর ফলে বনের প্রাকৃতিক পরিবেশের বিপর্যয় ঘটে। 



বক্তারা বলেন বিদেশী কোম্পানিগুলো কি আইনের উর্দ্ধে? দেশের পরিবেশবাদীদের অবজ্ঞা করে বিভিন্ন কোম্পানিকে কার্যক্রমের নামে পরিবেশ ধ্বংশের অনুমোদনের উদাহরণ এই প্রথম নয়। আইনকে ভঙ্গ করে এধরনের অনুমোদন কারা প্রদান করে? কি তাদের লাভ? এদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন। বক্তারা বলেন আমাদের দেশে কাজ করতে হলে অবশ্যই দেশের সকল আইন ও প্রতিষ্ঠানকে মান্য করে কাজ করতে হবে। রাষ্ট্রের আইন ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি অবজ্ঞা দেশের সংবিধান, সরকার ও জনসাধারণের প্রতি অবজ্ঞাও। একটি স্বাধীন সার্বভোম দেশে বিদেশী কোম্পানিগুলোর স্বেচ্ছাচারিতামূলক কার্যকলাপ কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। 



বক্তারা লাউয়াছড়া সংরক্ষিত উদ্যানে শেভরনের ত্রিমাত্রিক জরিপ নিষিদ্ধ, জরিপের কারণে ক্ষতিপুরণ আদায়ের পদক্ষেপ গ্রহণ, বিগত দিনে ও বর্তমানে দেশের বন ধ্বংশ করে তেল গ্যাস অনুসন্ধানের অনুমোদনকারী ও সমর্থনকারী কর্মকর্তাদের আইনী প্রক্রিয়ায় শাস্তি প্রদান, ভবিষ্যতে সংরক্ষিত এলাকায় এ ধরনের জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা অনুমোদন না করা, আগামীতে অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে দেশের ও আন্তর্জাতিক পরিবেশ আইনসহ সকল আইন মেনে অনুমোদন দেয়া, অনুসন্ধানকারী কোম্পানির কাছ থেকে বন্ডমানি নেয়া, বিদেশী কোম্পানিগুলোকে দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, আইন মেনে কার্যক্রম পরিচালনায় বাধ্য করা, সংরক্ষিত স্থানে সরকারী প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে অগ্রধিকার দেওয়া, যে কোন দূর্ঘটনার দায় কী হবে তা সুস্পষ্টভাবে অনুসন্ধানের চুক্তিতে উলে¬খ্য করা, চুক্তি স্বাক্ষরের পূর্বে জনসমক্ষে প্রকাশ করা এবং জনগণের মতামত নেয়ার দাবি করেন। বক্তারা বন রক্ষায় সরকার, গণমাধ্যমকর্মী, রাজনীতিবিদ, ছাত্র-শিক্ষক, উন্নয়নকর্মী, মানবাধিকার কর্মী, সমাজকর্মী, শ্রমিকসহ প্রতিটি স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহবান জানায়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিতি ছিলেন পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খান, তেল গ্যাস ও বন্দর ও বিদ্যু রক্ষা কমিটির ইঞ্জিঃ মোঃ শহিদুল্লাহ এবং ব্যারিষ্টার রায়হান খালিদ।