রবিবার, মে ১৮, ২০২৫

বিদেশী ইউক্যাপিলটাস ও আকাশমণি আমাদের কি ক্ষতি করে?

বিদেশী আগ্রাসী এই সব বৃক্ষ অধিক হারে রোপণ করার ফলে দেশের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

এর ফলে দেশের পরিবেশ, প্রকৃতি, বন্যপ্রাণী, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ - এসবের ক্ষতি হচ্ছে বলে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
গত কয়েক বৎসর শেরপুর, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে একের পর এক হাতী বন থেকে বের হয়ে খাবারের সন্ধানে মানুষের কৃষি জমিতে নেমে আসছে ও মানুষের পাতা বিদ্যুতের তারের ফাঁদে জড়িয়ে মারা যাচ্ছে, অনেক মানুষও হাতীর আক্রমণে মারা যাচ্ছেন। ২০২১ সালের তথ্য অনুযায়ী “বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সাল থেকে গত ১৭ বছরে মানুষের হাতে হত্যার শিকার হয়েছে ১১৮টি হাতি” (১)। গত চার বৎসরে মারা গেছে আরও অনেক হাতী।
হাতীদের কৃষি জমিতে নেমে আসার কারন পাহাড়ের বনে সব আকাশমণির বাগান, তাতে আর হাতীর খাদ্য নেই। পূর্বে বনে বাঁশ ও বন্য গাছগাছালির অরন্য ছিল, হাতী ও অন্যান্য বন্য প্রাণী তা আহার করতো। হাতী ছাড়াও বানর, হরিন, বাঘ সহ অন্যান্য সকল বন্যপ্রাণীর সংখ্যাও আবাসভুমি কেটে আকাশমণির বাগান করায় প্রায় শুনের কোঠায়। বন্য প্রানিরা লোকালয়ে নেমে এসে মানুষের হাতে নিহত হচ্ছে।
বাংলাদেশের গ্রামের প্রধান বৃক্ষ এখন মেহগনি, বনে সামাজিক বনায়নের আকাশমণি। দেশীয় গাছপালা দেশেই সংখ্যালঘু হয়ে বিলুপ্তির পথে। এর ফলে জীববৈচিত্র্য, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির সন্মুক্ষিন।
দেশের জীববৈচিত্র্য রক্ষার সিদ্ধান্তটি ২০২৫ সালের নয়, এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিলো ২০১১ সালে। ২০১১ সালে জাতী সংবিধানে বন বিষয়ে তার উদ্দেশ্য ও নীতি নির্ধারণ করেন। আর তা হলঃ
"পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন
১৮ক। রাষ্ট্র বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করিবেন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ, জীব-বৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন ও বন্যপ্রাণির সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান করিবেন।" (২)
এই সংবিধানের ১৮ক অণুচ্ছেদে বর্ণীত উদ্দেশ্য পুরনকল্পে অনেক আগেই ইউক্যালিপটাস, আকাশিয়া ও অন্যান্য বিদেশী গাছ দেশে নিষিদ্ধ করা আইনগত ভাবে রাষ্ট্রের ওপর বাধ্যতামুলক ছিল। কোন কারনে পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও বন বিভাগ এই ১৪ বৎসর তা বাস্তবায়ন না করে সংবিধান লঙ্ঘন করে আসছিলেন। এবার তার কিছু নিরসন হল।
বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুযায়ী দেশের জীববৈচিত্র্য রক্ষার স্বার্থে যে সোকল বিদেশী প্রজাতি দেশের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করছে তাদের নির্মূল করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধঃ দেখুন Convention on Biological Diversity, 1992 (CBD) বলছেঃ
Article 8. In-situ Conservation
Each Contracting Party shall, as far as possible and as appropriate:
"(h) Prevent the introduction of, control or eradicate those alien species which threaten ecosystems, habitats or species;" (৩)
তথ্যসুত্রঃ
=====
(১) হাতি: বাংলাদেশে একের পর এক এই বন্যপ্রাণীর মৃত্যুর পেছনে কারণ কী, সানজানা চৌধুরী, বিবিসি বাংলা, ঢাকা, ১৩ নভেম্বর ২০২১।
https://www.bbc.com/bengali/news-59257659, ১৮.০৫.২০২৫ তারিখে পরীক্ষিত।
(২) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, ১৮ক অনুচ্ছেদঃ http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-957.html
(৩) Convention on biological diversity. Rio de Janeiro, 5 June 1992
https://treaties.un.org/.../19920605.../ch_xxvii_08p.pdf, ১৮.০৫.২০২৫ তারিখে পরীক্ষিত।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন