বুধবার, জুন ০৪, ২০২৫

কোরবানি কি আল্লাহ তায়ালার হুকুম না মানুষের হুকুম?

আবু রায়হান মুহম্মদ খালিদ[1]।

==================

ইসলাম ধর্মে প্রচলিত কোরবানির আইনটি দুই ভাগে বিভক্ত। বর্তমানে প্রচলিত ইসলামের চারটি দল বা মাজহাবের একটি হানাফি মাজহাবের আলেমগন কোরবানি করা ওয়াজিব বা বাধ্যতামূলক বলেন, আবার বাকি তিনটি মাজহাব অর্থাৎ মালিকী, শাফীই ও হানবালী মাজহাবের আলেমগন একে সুন্নতে মোয়াক্কাদা বা ঐচ্ছিক বলেন[2]।

আল্লাহ তায়ালা যদি আমাদের কোরবানি করতে আদেশ করে থাকেন তবে সেখানে কি মানুষের পছন্দ করার সুযোগ থাকতে পারে? তাতে দুই রকম মত হয় কি করে?

এতে প্রশ্ন জাগে আল্লাহ তায়ালা কি আমাদের আদৌ পশু কোরবানির আদেশ করেছেন, না মানুষ এই আইন তৈরি করেছে?

বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত মতঃ কোরবানি ওয়াজিব
----------------------------------------------
বাংলাদেশে অধিকাংশ মুসলমান নিজেদের হানাফি মাজহাবের অনুসারি মনে করে থাকে। পশু কোরবানি আমাদের দেশে ওয়াজিব বা বাধ্যতামূলক মনে করা হয়।

১। উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান মারকাযুদ দাওয়াহ আল ইসলামিয়া, ঢাকার মুখপত্র মাসিক আল-কাউসার[3] পত্রিকার মতে এই আইনটি নিন্মরুপঃ

“কার উপর কুরবানী ওয়াজিব

মাসআলা: প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্কসম্পন্ন প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী, যে ১০ যিলহজ্ব ফজর থেকে ১২ যিলহজ্ব সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবে তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব। টাকা-পয়সা, সোনা-রূপা, অলঙ্কার, বসবাস ও খোরাকির প্রয়োজন আসে না এমন জমি, প্রয়োজন অতিরিক্ত বাড়ি, ব্যবসায়িক পণ্য ও অপ্রয়োজনীয় সকল আসবাবপত্র কুরবানীর নেসাবের ক্ষেত্রে হিসাবযোগ্য।

আর নেসাব হল স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত (৭.৫) ভরি, রূপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫) ভরি, টাকা-পয়সা ও অন্যান্য বস্তুর ক্ষেত্রে নিসাব হল- এর মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যের সমপরিমাণ হওয়া। আর সোনা বা রূপা কিংবা টাকা-পয়সা এগুলোর কোনো একটি যদি পৃথকভাবে নেসাব পরিমাণ না থাকে কিন্তু প্রয়োজন অতিরিক্ত একাধিক বস্তু মিলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যের সমপরিমাণ হয়ে যায় তাহলেও তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব। -আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৪৫৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪০৫”[4]।

আল কাউসার পত্রিকা কত্রিপক্ষ অন্যত্র উপরোক্ত দুই উৎসের সাথে তৃতীয় আরেকটি উৎস যোগ করেছেন এই ফতোয়ার সূত্র হিসেবেঃ “বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৬”[5]।

২। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ফাউনডেশন কুরবানির নিন্মবর্ণীত আইন প্রদান করেনঃ

“কুরবানির শর্তাবলী

কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার শর্ত সমুহ নিন্মরুপঃ

ক। নিসাব পরিমান মালের মালিক হওয়া। অর্থাৎ যার ওপর সাদকায়ে ফিতর ওয়াজিব, তার ওপর কুরবানিও ওয়াজিব… (আলমগীরী, ৫ম খণ্ড)”[6]।

“যার ওপর কুরবানি ওয়াজিব”

“যার নিকট থাকার জন্য ঘরবাড়ি, খানাপিনার আসবাবপত্র, ব্যবহারের কাপড়-চোপড়, সাওয়ারী ও অন্যান্য মৌলিক প্রয়োজনীয় জিনিস্পত্র ছাড়া সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা থাকবে, অথবা সে পরিমান অর্থ থাকবে তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব” (আলমগীরী, ৫ম খণ্ড)”[7] ।

৩। বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় তরুন আলেম শায়খ আহমাদুল্লাহ[8] সাহেব বলেনঃ

“ফোকাহে আহনাফের মতে কোরবানির ঈদের দিন এবং কোরবানির ঈদের পরে আরও দুই দিন এই তিন দিনের মধ্যে কারও কাছে যদি এই পরিমান সম্পদ থাকে যে সম্পদ দিয়ে তিনি সাড়ে বাহান্ন তোলা রুপা কিনতে পারেন (যাকাতের নেসাব), তাহলে তার উপর কোরবানি ওয়াজিব হয়”[9]।

তিনি কোরআন আজিমের আল্লাহ তায়ালার কোন আয়াত বা কোন নির্দিষ্ট গ্রন্থের নাম না করে আইনটি “ফোকাহে আহনাফের” বা ‘হানাফি’ মাজহাবের আলেমদের উদ্ভাবিত বলে দাবী করেছেন।

ওপরে বর্ণনা করা তিনটি উৎসের আইন একই, কোরবানি ঈদের দিন যাকাতের নেসাব পরিমান সম্পদের মালিক হলে কোরবানি ওয়াজিব হয়। আলেমগন এই আইনের উৎস কি দাবী করেন তা দেখতে আমরা তিনটিই সম্পূর্ণ বর্ণনা করেছি।

দেখা যায় যে এই আইনের উৎস হিসেবে আলেমগন কোন একটি নির্দিষ্ট গ্রন্থের নাম না করে একেক জন একেক গ্রন্থের নাম করে মোট ৫টি গ্রন্থের নাম প্রদান করেছেনঃ

১। আল-মুহীতুল বুরহানী[10]; ২। ফাতাওয়া তাতারখানিয়া[11]; ৩। বাদায়েউস সানায়ে[12]; ও ৪। আলমগীরী[13]। এ ছাড়াও আমরা কোরবানির শরিয়ার উৎস হিসাবে ‘রাদুল মুহতার[14]’ নামক ফতোয়া গ্রন্থের নাম দেখতে পেয়েছি। এই পাঁচটি গ্রন্থই মানুষের রচিত ফতোয়া গ্রন্থ।

বাংলাদেশে নতুন মতঃ কুরবানি ওয়াজিব নয়, সুন্নতে মুওয়াক্কাদা
----------------------------------------------------------------
আমরা গবেষণায় দেখতে পাই যে সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের আলেমগনের একটি দল কোরবানি করাকে ওয়াজিব বলছেন না, সুন্নতে মোয়াক্কাদা বলছেন। এঁরা বাংলাদেশের ‘আহলে হাদিস আন্দোলন’[15] এর আলেম।

১। “কুরবানি করা সুন্নতে মুওয়াক্কাদা। এটি ওয়াজিব নয় যে, যেকোনো মুল্যে প্রত্যেককে কুরবানি করতেই হবে। লোকেরা যাতে এটাকে ওয়াজিব মনে না করে, সেজন্য সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হযরত আবুবকর ছিদ্দীক, ওমর ফারূক, আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর, আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস, বেলাল, আবু মাসঊদ আনছারী (রাঃ) প্রমুখ ছাহাবীগণ কখনো কখনো কুরবানী করতেন না। “[প্রদত্ত দলীলঃ বাইহাক্কি ৯/২৬৪ পৃ. হা/১৯৫০৬; ইরওয়ালুল গালীল হা/১১৩৯, ৪/৩৫৪; মির’আত ৫/৭২-৭৩, উছায়মিন, মাজমূ’ ফাতাওয়া ২৫/১০][16]

“যাকাত ফরজ হয় এরুপ সম্পদ থাকলে তার উপর কুরবানি করা ওয়াজিব, এ কথা ঠিক নয়। বরং সামর্থ্য থাকলে তিনি কুরবানি করবেন, নইলে নয়।[17]“

লক্ষ করুন, ওয়াজিবপন্থি বা সুন্নতপন্থি, আলেমগনের কেউই কোরবানির আইন হিসেবে কোরআন আজিমের কোন আয়াতের উল্লেখ করেন নি, আল্লাহ তায়ালার নাম উল্লেখ করেন নি, বরং মানুষের উদ্ভাবন করা আইনের কথা উল্লেখ করেছেন।

তাহলে দেখা যায় আমরা মানুষের উদ্ভাবিত আইনে কোরবানি করি, আল্লাহ তায়ালার আইনে নয়।

অথচ আল্লাহ তায়ালা আদেশ করেন যে দীনের হুকুম শুধু তিনিই দান করতে পারেনঃ আউজুবিল্লাহি মিনাশাইতানির রাজিম, বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম,

“কুল ইননি আলা বায়য়িনাতিন মিন রাববি ওআ-কাজজাবতুম বিহি মা ইনদি মা তাসতাজিলুনা বিহি ইনি ল-হুকমু ইললা লি-ললাহি য়াকুসসু ল-হাককা ওআ-হুওআ খায়রু ল-ফাসিলিন’, সুরা আন’আম, আয়াত নং ৫৭।

অর্থঃ “তুমি বলঃ আমি আমার রবের প্রদত্ত একটি সুস্পষ্ট উজ্জ্বল যুক্তি প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত, অথচ তোমরা সেই দলীলকে মিথ্যারোপ করছো। যে বিষয়টি তোমরা খুব তাড়াতাড়ি পেতে চাও তার এখতিয়ার আমার হাতে নেই। হুকুমের মালিক আল্লাহ ছাড়া আর কেহ নয়, তিনি সত্য ও বাস্তবানুগ কথা বর্ণনা করেন, তিনিই হচ্ছেন সর্বোত্তম ফাইসালাকারী।“(মুজিবুর রহমান অনুবাদ।)।[18]

জাজাকাল্লাহু খাইরান। সালাম, ফী আমানিল্লাহ।

তথ্যসূত্রঃ
=====
[1] এলএল,এম (চট্টগ্রাম; লন্ডন); ব্যারিস্টার-এট-ল (যুক্তরাজ্য); অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট। টেলিফোনঃ 01715941751 [WhatsApp], ইমেলঃ raihan.khalid@yahoo.com। রচনাটি প্রথমে জুলাই ২০২১ খৃষ্টাব্দে রচিত ও প্রকাশিত। বর্তমান সংস্করন ৪ঠা জুন ২০২৫ খৃষ্টাব্দ তারিখে সমাপ্ত। আমি ২০১৫ সাল থেকে আর অর্থ উপার্জনের জন্য কাজ করিনা, আল্লাহ্‌র ওয়াস্তে ওকালতি ও আল্লাহ্‌র ধ্যান করি।

[2] ফতওয়া ইবনে উসাইমিন, নং ২/৬৬১। মুহাম্মাদ ইবনে সালেহ আল-উসাইমিন (১৯২৯ – ২০০১) ছিলেন বিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে সৌদি আরবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফকিহ। ফতোয়াটি www.islamicity.org থেকে সংগৃহীত, এ পাতায় আছেঃ https://www.islamicity.org/5512/udhiyahqurbani-obligatory-or-sunnah/। একই মত islamqa.info ও সমর্থন করে। দেখুন https://islamqa.info/en/answers/36432/what-is-udhiyah, একই দিনে পরীক্ষিত। ইবনে উসাইমিন সম্পর্কে জানতে দেখুন উইকিপিডিয়াঃ https://shorturl.at/z8Oe8। সকল ওয়েবলিঙ্ক ০৪.০৬.২০২৫ তারিখে পরীক্ষিত।

[3] পত্রিকার ওয়েবসাইটঃ https://www.alkawsar.com/bn/। মাসিক আলকাউসার । সম্পাদক ও প্রকাশক: আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ । সম্পাদকীয় বিভাগ, মারকাযুদ্ দাওয়াহ আলইসলামিয়া ঢাকা, হযরতপুর, কেরানীগঞ্জ, ঢাকা – ১৩১৩, ফোন : ০১৯৮৪ ৯৯ ৮৮ ২২, ই-মেইল : info@alkawsar.com, Facebook পেজঃ https://www.facebook.com/alkawsarbd

[4] কুরবানী সংক্রান্ত কিছু জরুরি মাসায়েল, মাওলানা মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া, যিলহজ্ব ১৪৩৮, সেপ্টেম্বর ২০১৭, https://www.alkawsar.com/bn/article/2154/, ০২রা জুন ২০২৫ তারিখে শেষবার পরীক্ষিত।

[5] মাসিক আলকাউসার - The Monthly Al Kawsar এর ফেসবুক পেজ এ ২৩ জুলাই ২০২০ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত কুরবানী বিষয়ক প্রশ্ন-উত্তর (১ম পর্ব), উত্তর প্রদানে: ফতোয়া বিভাগ, মারকাযুদ দাওয়াহ আলইসলামিয়া ঢাকা, https://www.facebook.com/alkawsarbd/posts/pfbid02tZSLV2ZgK3ctvfDorYCfSN35NkDxRGUxTcSbSQ9NqExf4ftEUhNKGQ9vbYRLpFTGl, ০২ জুন ২০২৫ তারিখে শেষবার পরীক্ষিত।

[6] ইফা, কুরবানি ও আকিকা সংক্রান্ত মাসআলা-মাসায়েল, সম্পাদনা পরিষদ, ইসলামিক ফাউনডেশন, ঢাকা, তৃতীয় সংস্করণ, অক্টোবর ২০১১, ISBN: 984-06-1036-9, পৃষ্ঠা ৯, ১০।

[7] ইফা, ২০১১, ঐ, পৃষ্ঠা ১১।

[8] শায়খ আহমাদুল্লাহর জন্ম ১৫ ডিসেম্বর ১৯৮১ সালে লক্ষ্মীপুর জেলার বশিকপুরে। তিনি আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন নামক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা, গ্রন্থ রচয়িতা ও অনলাইনে তাঁর বহু বক্তব্যের চলচিত্র পাওয়া যায়। বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জের ভূমিপল্লী জামে মসজিদের খতীবের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর ওয়েবসাইটঃ https://ahmadullah.info/

[9] শায়খ আহমাদুল্লাহ, কুরবানী বিষয়ক প্রশ্নোত্তর। পর্ব-২৬৩, https://www.youtube.com/@sheikhahmadullahofficial এ প্রকাশিতঃ https://www.youtube.com/watch?v=X3QByZqHdHo, ০৩.০৬.২০২৫ তারিখে পরীক্ষিত।

[10] আল-মুহীতুল বুরহানী বইটির সম্পূর্ণ নাম ‘Al-Muhit Al-Burhani fi Al-Fiqh Al-Nu'mani, Fiqh Imam Abu Hanifa’, আর এর রচয়িতার নাম Abu Al-Maali Burhan Al-Din Mahmoud Ibn Ahmed Ibn Abdul-Aziz Ibn Omar Ibn Maza Al-Bukhari (D. 616 A.H, অর্থাৎ ১২১৯ খৃষ্টাব্দ)। তাঁর নাম Shaikh Mahmood Ibn Mazah Al Bukhari হিসেবেও সংক্ষেপে লেখা হয়।

[11] আল্ ফতোয়া তাতারখানিয়া দিল্লীতে রচিত একটি ফতোয়ার বই। এটি লিখেছেন শেইখ আলিম বিন আলা ইন্দরপতি, ইনি ১৩৮১ খৃষ্টাব্দে মৃত্যু বরন করেন। বিস্তারিত জানতে দেখুনঃ https://www.muftisays.com/forums/books/8690/fatawa-tatarkhaniya--for-ulema.html, ০৪.০৬.২০২৫ তারিখে পরীক্ষিত।

[12] এই বইটির পূর্ণ নাম ‘Bada'i' as-Sana'i' fi Tartib ash-Shara'i'’ (Marvellous artistry in the arrangement of the religious-legal regulations)[13], এটি রচনা করেছেন ইমাম কাসানি। ইমাম কাসানির পূর্ণ নাম “'Ala' al-Din al-Kasani, known as Al-Kasani or al-Kashani, was a 12th Century Sunni Muslim Jurist who became an influential figure of the Hanafi school of Sunni jurisprudence”[14]। ইনি ১১৯১ খৃষ্টাব্দে মৃত্যুবরন করেন। দেখুন উইকিপিডিয়া, Al-Kasani https://en.wikipedia.org/wiki/Al-Kasani?fbclid=IwZXh0bgNhZW0CMTAAYnJpZBExc0dFVEh6UEF3bU5VSWRuQQEeRlOQhytvTHF9YITy4Ua7OxZ91vpwHz3vXR2ELuI89FDxauN-sRS1WXgQUyg_aem_pyNuq671Ii_hz-7gYiGr4A

[13] ‘আলমগীরী’ হল ‘ফতোয়ায়ে আলমগিরি’। গ্রন্থটি আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দীয়া বা আল-ফাতাওয়া আল-আলমকিরীয়া নামেও পরিচিত। মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের নির্দেশে এই সংকলন প্রণীত হয়। ১৭ শতকে ভারতে বাদশাহ আওরঙ্গজেব ৩ নভেম্বর ১৬১৮ – ৩ মার্চ ১৭০৭) এর শাসনামলে এই ফতোয়া গ্রন্থটি রচিত হয়। বিস্তারিত জানতে দেখুনঃ https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%86%E0%A6%B2-%E0%A6%AB%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE_%E0%A6%86%E0%A6%B2-%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%80%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE#cite_note-6, ০৪.০৬.২০২৫ তারিখে পরীক্ষিত।

[14] রাদ আল-মুহতার গ্রন্থের পূর্ণ নাম ‘রাদ্দুল মুহতার আলাদ দুররিল মুখতার’। এই ফতোয়া গ্রন্থের রচয়িতা ইবনে আবিদিন। পুরো নাম মুহাম্মাদ আমিন বিন ওমর বিন আবদিল আজিজ আবিদিন আল-দামিশকি (১৭৮৪-১৮৩৬)। তিনি ইবনে আবেদিন শামি নামে সুপরিচিত। রাদ আল-মুহতার গ্রন্থটি ‘ফতোয়ায়ে শামী’ নামে অধিক পরিচিত। বিস্তারিত জানতে দেখুনঃ https://en.wikipedia.org/wiki/Radd_al-Muhtar; ও লেখন ইবনে আবিদিন এর জন্যঃ https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%87%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%87_%E0%A6%86%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8, ০৪.০৬.২০২৫ তারিখে পরিক্ষিত।

[15] আহলে হাদিস আন্দোলন এর মূল ওয়েবসাইটঃ https://ahlehadeethbd.org/index.html, ০৪.০৬.২০২৫ তারিখে পরীক্ষিত।

[16] ডঃ মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব, অধ্যাপক (অবঃ), আরবি বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, পৃষ্ঠা ১১, আল-গালিব, ম,আ, মাসায়েলে কুরবানি ও আক্কিকা, হাদিছ ফাউনডেশন বাংলাদেশ, রাজশাহী, ষষ্ঠ সংস্করন, ২০২০।

[17] আল-গালিব, ম,আ, ঐ।

[18] , সুরা আন’আম, আয়াত নং ৫৭। ভাষ্য, উচ্চারন ও অনুবাদঃ https://quranhadithbd.com/sura/6?s=57।